
বাগেরহাটের ফকিরহাটে প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক-সংলগ্ন ৩ একর ৬০ শতক জমির এই বিশাল এলাকাটি এখন জঙ্গলে ঠাসা। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে প্রশিক্ষণ না হওয়ায় গ্যারেজে পড়ে থাকা গাড়িগুলো অকেজো হয়ে গেছে। দেশের একমাত্র পুরুষ শারীরিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসনকেন্দ্রটি এখন যেন এক ভুতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়েছে। আবাসিক ভবন সংকটের কারণে এখানে নতুন কোনো প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবকেরা এখানে এসে নিয়মিত হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ট্রেডে একসময় প্রতিবন্ধী যুবকেরা কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হতেন। ২০১২ সালে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩১৯ জন দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরির যাত্রা থেমে গেছে। বর্তমানে মাত্র একজন প্রশিক্ষক থাকলেও তিনি আগামী মাসেই অবসরে যাচ্ছেন। মঞ্জুর করা ১১টি পদের জনবল এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত আছেন। এর ফলে দাপ্তরিক কাজেও ব্যাপক সমন্বয়হীনতা এবং অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। ফকিরহাটে অবস্থিত হলেও এটি দেখভাল করছেন খুলনার তেরোখাদা উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা।
মূল্যবান সরঞ্জামের স্তূপ এবং প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে জাতীয় সম্পদ। ২০১৬ সালে আবাসিক হোস্টেলটি নিলামের জন্য সুপারিশ করা হলেও এখনও অনুমতি মেলেনি। জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে বারবার চিঠি দিলেও কেবল নথিপত্রের সংখ্যাই বেড়েছে। রমজান শেখের মতো অনেক যুবক দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কেন্দ্রটি চালুর অপেক্ষায় আছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ভবন ও জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুনরায় চিঠি দিয়েছে। এলাকাবাসী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সচল করার দাবি জানিয়েছেন।
Published by AjkerNewsBD
Source: AjkerNewsBD