নতুন ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়: বিমান ও বোয়িংয়ের ঐতিহাসিক চুক্তি

নতুন ১৪টি বোয়িং ক্রয়

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্প্রতি নতুন ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয় করার লক্ষ্যে বোয়িংয়ের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তির আওতায় ৮টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স কেনা হবে। এই বিশাল প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ ও বোয়িং প্রতিনিধি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

এই নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং রুট সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। ড্রিমলাইনারগুলো ইউরোপ ও এশিয়ার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক রুটে সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই বিমানগুলো আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী। বোয়িং জানিয়েছে, এর ফলে যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত হবে। ২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির মাঝেই এই চুক্তি সম্পন্ন হলো।

চুক্তি অনুযায়ী বিমানের নতুন ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয় কার্যক্রম বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করবে। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্রয়ের দৌড়ে বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের সাথে চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রতিযোগিতার অবসান ঘটলো। এর ফলে বিমান বিশ্বের অল্প কয়েকটি ড্রিমলাইনার সমৃদ্ধ এয়ারলাইন্সের তালিকায় ঢুকবে। নতুন টার্মিনাল ও আধুনিক বহর বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করবে। জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিমানের অপারেশনাল দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পর্যটনমন্ত্রী জানান, এই বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়িয়ে সংস্থাকে লাভজনক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Published by AjkerNewsBD

Source: AjkerNewsBD

© 2026 AjkerNewsBD

Translate »

© 2026 AjkerNewsBD | All rights reserved