সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে আবারও দস্যুদের আত্মসমর্পণের সুর

সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে আবারও

সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে আবারও বাজতে শুরু করেছে বন ও জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের সুর। অন্ধকার জগৎ ছেড়ে এবার আলোর পথে ফিরছে ‘ছোট সুমন বাহিনী’।

দীর্ঘ ৮ বছর শান্ত থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সুন্দরবনে নতুন করে দস্যুবৃত্তি শুরু হয়েছিল।

তবে যৌথ বাহিনীর তীব্র তৎপরতায় কোণঠাসা হয়ে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে আবারও সুন্দবনের ত্রাস ছোট সুমন আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০১৮ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে সুন্দরবনের ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন জলদস্যু বিপুল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। তখন সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাময়িক স্থবিরতার সুযোগ নিয়ে বনে আবারও দস্যুবৃত্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন জোনে ৮ থেকে ৯টি নতুন ও পুনর্গঠিত দস্যুবাহিনী জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় শুরু করেছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যই ২০১৮ সালে সাধারণ ক্ষমা পেয়ে আত্মসমর্পণ করা পুরনো অপরাধী।

বর্তমানে দস্যুদের দমনে কোস্ট গার্ড, র‍্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী সুন্দরবনে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।

যৌথ বাহিনীর এই তীব্র অভিযানের মুখে পড়েই মূলত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সদস্যরা এখন আত্মসমর্পণের পথ খুঁজছে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের গোয়েন্দা শাখা জানায়, সুমনসহ তার সহযোগীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি চলছে।

তবে নামমাত্র কিছু ভাঙাচোরা অস্ত্র জমা দিয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্রের বড় অংশ গহীন বনে লুকিয়ে রাখা হবে কি না—তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা রয়েছে।

উপকূলবাসী ও প্রান্তিক জেলেদের দাবি, আত্মসমর্পণকারীদের কঠোর নজরদারিতে রেখে সুন্দরবনে জেলেদের জানমালের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2026 AjkerNewsBD

Translate »