ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা বিতর্ক: সংসদে সালাহউদ্দিন আহমেদের কড়া হুঁশিয়ারি
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা বিতর্ক এবং এর ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল বিতর্ক ও হট্টগোল হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ আনলে আলোচনা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের আনা ‘শেয়ার ডাকাতি’র অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বৈধ ও প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংসদে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা বিতর্ক ও অনিয়মের খতিয়ান
সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে শেয়ার খরিদ করেছে তা ভিন্ন বিষয় এবং প্রয়োজনে তা নিয়ে দুদক তদন্ত করতে পারে। বর্তমান শেয়ার হোল্ডিং স্ট্যাটাস অনুসারে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের কাছেই ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কারও নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন:
“একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে, এই যাতনা তো আমরা বুঝি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়াই একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের টাকায় ঢাকা-কক্সবাজারের বিমানের টিকিট কাটার মতো সিএসআর (CSR) ফান্ডের অপব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে, যার সবগুলোরই সুনির্দিষ্ট তদন্ত হবে।
নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ ও পদোন্নতির অভিযোগ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি দখলের পর ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ৬ হাজার নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন স্তর পর্যন্ত বাড়িয়ে মোট ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামের নামে হওয়া এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অনেক বড় বড় নাম সামনে চলে আসতে পারে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সার্বিক আইন ও বর্তমান নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জানতে আমাদের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন সংসদ অধিবেশন আপডেট এবং ব্যাংকিং খাতে সংস্কার পড়তে পারেন।
