খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতাল: ৫ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ
খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের ধীরগতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো রোগী। দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি এই বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের নির্মাণকাজ। ফলে আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসাসেবা থেকে এখনও বঞ্চিত রয়েছেন খুলনাসহ আশেপাশের জেলার সাধারণ মানুষ।
খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতাল প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের পেছনে প্রায় ২৩ হাজার ২৫০ বর্গমিটার জমির ওপর এই পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও এখন আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে। গণপূর্ত বিভাগের তথ্যমতে, মূল ভবনের অবকাঠামো ৯৮ শতাংশ শেষ হলেও ২২টি প্যাকেজের সামগ্রিক অগ্রগতি মাত্র ৬৩ শতাংশ।
“প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ৪৫০ শয্যার একটি বিশাল হাসপাতাল গড়ে উঠবে, যার মধ্যে ১৮২টি শয্যা থাকবে ক্যানসার রোগীদের জন্য। বাকি শয্যাগুলো হৃদরোগ ও কিডনি চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ থাকবে।”
চিকিৎসা বঞ্চিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মতে, এই অঞ্চলের রোগীদের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য চড়া মূল্যে ঢাকা কিংবা ভারতে যেতে হয়। বটিয়াঘাটার বাসিন্দা স্বরূপ মণ্ডল এবং খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে এই দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট করছে। হাসপাতালটি দ্রুত চালু হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বল্প আয়ের মানুষ উন্নত চিকিৎসা পেত।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, ২২টি পৃথক প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই সব নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তারা।
দেশের ক্যানসার পরিস্থিতি ও সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া খুলনার স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য খবর জানতে আমাদের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন খুলনা মেডিকেল কলেজ সংকট এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা পড়তে পারেন।
