বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামো: শফিকুল আলম তুহিনের নতুন নেতৃত্ব ও সম্ভাবনা
বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামো দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি। ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তারকা এবং শক্তিশালী পাইপলাইন গড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ স্তরে যুক্ত হয়েছে নতুন গতি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিসিবি পরিচালক জনাব শফিকুল আলম তুহিন। তৃণমূল পর্যায় থেকে সঠিক প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার এই গুরুদায়িত্বে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব দারুণ ভূমিকা রাখবে।
কেন দেশের ক্রিকেট কাঠামোর মূল ভিত্তি এই বয়সভিত্তিক দল?
অনূর্ধ্ব-১৪ থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যন্ত দলগুলো শুধু টুর্নামেন্ট জেতার জন্য নয়, বরং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর। শক্তিশালী বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামো গড়ে তোলার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- প্রতিভা অনুসন্ধান ও বিকাশ: বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট উইং বছরজুড়ে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্কুল, ক্লাব ও জেলা পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের খুঁজে বের করে সঠিক কোচিং ও মেন্টাল ট্রেনিং প্রদান করে।
- জাতীয় দলের পাইপলাইন: ২০২০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব এসেছে এই কাঠামো থেকেই।
- দক্ষতা বিকাশের সঠিক সময়: ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যেই ক্রিকেটারদের টেকনিক্যাল ও ফিজিক্যাল স্কিল আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়।
“বয়সভিত্তিক ক্রিকেট হলো বীজ বপনের পর্যায়। এখানে যত ভালো যত্ন নেওয়া হবে, ভবিষ্যতে জাতীয় দল তত বড় ফসল পাবে।”
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিসিবি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চ্যালেঞ্জার সিরিজ ও বিদেশি কোচ নিয়োগের পাশাপাশি মাহমুদুল্লাহর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর হিসেবে যুক্ত করেছে। তবে যুব স্তরের এই সাফল্যকে সিনিয়র লেভেলে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আইসিসি ও বিশ্ব ক্রিকেটের যুব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া দেশের ক্রিকেট নিয়ে আমাদের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন বিসিবি গেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সাফল্য পড়তে পারেন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া শফিকুল আলম তুহিনের হাত ধরে আমাদের ক্রিকেটের যুব কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশবাসী একঝাঁক নতুন “টাইগার” উপহার পাবে—এটাই প্রত্যাশা।
