দেশে চলমান সংক্রামক হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে একটি সমন্বিত জাতীয় রোডম্যাপের প্রস্তাব দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা । গতকাল শুক্রবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন । হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে । তিনি জানান, হামের আউটব্রেক ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া প্রয়োজন । জাতীয় টিকাদানের গড় ভালো হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পকেটগুলোতে কভারেজ অনেক কম থাকে । এই ফাঁকা পকেটগুলোতেই মূলত ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি একটি জাতীয় হাম হটলাইন বা কল সেন্টার চালুর দাবি জানান ।
ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে আক্রান্ত এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। চিহ্নিত এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করে “রিং ভ্যাকসিনেশন” কৌশল প্রয়োগ করতে হবে । আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘোরাঘুরি বন্ধ করা জরুরি । কারণ এতে অন্য সাধারণ মানুষ ও শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন । এই সমস্যা সমাধানে প্রতিটা এলাকায় নির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র ও আইসোলেশন কক্ষ রাখা প্রয়োজন । এছাড়া কোন হাসপাতালে কয়টি বেড খালি আছে, তার একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড থাকা উচিত । গুরুতর শিশুদের সুচিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আইসিইউ সংকট সমাধান করা সম্ভব ।
জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন । ডা. তাসনিম জারা রোগীদের ওষুধসহ যাবতীয় চিকিৎসার খরচ সরকারিভাবে বহন করার আহ্বান জানিয়েছেন । টাকার অভাবে অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, যা জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা ভারতের মতো কল সেন্টার মডেল বাংলাদেশেও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব । এই সংকট মোকাবিলায় এখন প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক সঠিক সমন্বয় । ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো, তা জানতে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত । সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক শিশুর মূল্যবান প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে ।
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply