মহানগরীসহ খুলনা জেলাতে আবারও উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিলেও সম্প্রতি নগরজুড়ে খুন, গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
বিগত মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে আততায়ীদের গুলিতে আহত হয়েছেন বৃদ্ধা নারীসহ অন্তত পাঁচজন এবং নিহত হয়েছেন এক যুবক। আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা, চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এসব অপরাধের ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খুলনা অঞ্চলে এভাবে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাচালান, যা সীমান্ত পার হয়ে খুলনাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করছে।
পুলিশের তথ্য বলছে, সন্ত্রাসীরা বিদেশি পিস্তল ও রিভলবারের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তৈরি দেশীয় অস্ত্রও ব্যবহার করছে। গত সোমবার রাতে সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী এলাকায় দুই সন্ত্রাসীর ছোঁড়া লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে ৭০ বছর বয়সী আছিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা গুলিবিদ্ধ হন।
এর আগে ২৩ মে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে ওমর ফারুক রাব্বি নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথা ও বুকে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।
২১ মে লবণচরা থানার পুঁটিমারী বাজারে বিএনপি’র ওয়ার্ড কার্যালয়ে ঢুকে যুবদলকর্মী মাসুম শেখ ও তার শ্যালককে গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা। ১৯ মে নগরীর আলহেরা জামে মসজিদে শেখ হারুন অর রশিদ নামে এক খাদ্য ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
এছাড়া ১৭ মে পশ্চিম বানিয়াখামারে আলীনূর ডাবলু নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে একদল সন্ত্রাসী। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভারতের তৈরি বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র সাতক্ষীরা ও যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত রুট দিয়ে খুলনা হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১০টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি রিভলবার ও ১২৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অস্ত্র আইনে ১৭টি মামলায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম খান জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ, ডিবি ও এপিবিএন সমন্বিতভাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল।
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply