সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুরা ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে

সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুরা ব্যাপক

সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুরা ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই তারা নিরীহ বনজীবীদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করছে, যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও মৌয়ালদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বাসিন্দা আলামিন জানান, সম্প্রতি বনের মধ্যে মধু কাটতে গেলে রহমত বাহিনীর দস্যুরা অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের জিম্মি করে। পরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা কোনোমতে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসেন।

নতুন নতুন দস্যু দল গঠিত হওয়ায় সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুরা ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করেছে বলে ভুক্তভোগী জেলেরা অভিযোগ করছেন।

২০১৮ সালের শেষের দিকে সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি আবারও নাজুক হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জাহাঙ্গীর বাহিনী, ডন বাহিনী, দুলাভাই বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ বেনে সক্রিয় রয়েছে।

গত ১৯ মে গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের ফুসফুসেরচর এলাকা থেকে ১২ জেলেকে এবং খটকা খাল থেকে আরও ১৭ জেলেকে অপহরণ করে দস্যুরা। এর আগে ১৪ মে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে অস্ত্রের মুখে আটজন জেলেকে জিম্মি করা হয়।

অপহৃতদের পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে ২৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে দস্যুরা। টাকা না দিলে জেলেদের ওপর শিকলবন্দি করে নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

তবে কোস্টগার্ড ও র‍্যাব দস্যু দমনে তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। গত ২২ মে এক অভিযানে কোস্টগার্ড ২১ জন জেলেকে উদ্ধার এবং অস্ত্র-গুলি জব্দ করে। ২১ মে কুখ্যাত ‘সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ ৭ সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ মে পর্যন্ত ২৪টি সফল অভিযানে ৩২ জন দস্যুকে আটক এবং ৩০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দস্যুমুক্ত সুন্দরবন গড়তে কোস্টগার্ডের ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চলমান থাকবে।

Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2026 AjkerNewsBD

Translate »