রাজধানীতে একের পর এক খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনা পুরো জনপদে চরম আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্তে উঠে এসেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে পরকীয়া, অর্থ লেনদেনের বিরোধ এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের মতো বিষয় জড়িত। সম্প্রতি মুগদার মান্ডা এলাকার একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার সাত টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানায়, পরকীয়া ও টাকা ফেরত নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মা ও মেয়েকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মূল পলাতক আসামি তাসলিমাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অনৈতিক সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদে পড়ে অনেকেই জীবনের বড় ঝুঁকিতে পড়ছেন। গত বছরের নভেম্বরে শাহবাগ এলাকা থেকে ড্রামের ভেতর কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুলের ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। একইভাবে যাত্রাবাড়ীতে পরকীয়া ও আর্থিক বিরোধের জেরে তাসলিমা নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। আবার ফেব্রুয়ারিতে নয়াপল্টন ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ওবায়দুল্লাহ নামের এক যুবকের পাঁচ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকায় সাম্প্রতিক এই খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনা আমাদের সামগ্রিক সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, মোবাইল ও ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহারে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এর জেরে সমাজজুড়ে খুন, আত্মহত্যা ও লাশ টুকরো করার মতো রোমহর্ষক ও নৃশংস অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। এই সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা গেলে এই অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব। অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়তে পারে।
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply