পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন
জাতীয় ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈশ্বিক ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
এই মর্যাদাপূর্ণ গৌরব অর্জনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার ২ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক অভিনন্দন বার্তা দেওয়া হয়। অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অর্জনের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই গৌরবময় অর্জন বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদানের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের গ্রহণযোগ্যতা ও অতুলনীয় বিশ্বাসযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ।
একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় ও সমুন্নত করবে। তারেক রহমান গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খলিলুর রহমান তাঁর নতুন দায়িত্বে অত্যন্ত সফল হবেন। তিনি গৌরব ও মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বহুপাক্ষিক ও অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে তিনি কাজ করবেন। সংলাপ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন। বার্তায় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটের সমীকরণ
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অত্যন্ত তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে হারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। সাধারণ পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান ৯৯টি ভোট পেয়েছেন।
তাঁর একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেজ কাকাউরিস পেয়েছেন মাত্র ৯১টি ভোট। শেষ পর্যন্ত ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় সুনিশ্চিত করেন বাংলাদেশের প্রার্থী। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী এক বছর এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বসভার শীর্ষ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্কে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বনেতাদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই বিশাল জয় দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
কূটনৈতিক তাৎপর্য ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই জয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এক বিশাল বড় সাফল্য। নিউইয়র্কে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী কূটনীতিক জানান, ভোটের ফল ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ফুল দিয়ে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এই বিজয়ের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নিয়োগ দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবজনক অধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী কূটনৈতিক নির্দেশনার কারণেই এই ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ওআইসি ভুক্ত দেশগুলোও বাংলাদেশের এই প্রার্থিতার পক্ষে বিশ্বজুড়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিল। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে আরও উজ্জ্বল করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নাম এখন বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল।
সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
- বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জাতিসংঘে শান্তি মিশনের সর্বশেষ কার্যক্রম
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অফিশিয়াল কার্যাবলি ও অধিবেশন সম্পর্কিত তথ্য
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply