অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও বিবিএসের জরিপ

অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি

বিবিএসের জরিপে ই-কমার্সের নতুন চিত্র প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতের পরিধি দিন দিন বড় হচ্ছে। বর্তমানে দেশে অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসগুলো গ্রাহকদের কেনাকাটার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, দেশের ১৪.৪ শতাংশ মানুষ অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করেন। এই ই-কমার্স কেনাকাটায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকার ২১.৩ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনলাইনে পণ্য কেনেন। অন্যদিকে এই তালিকায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বরিশাল বিভাগ।

কেনাকাটার পণ্য ও মূল্য পরিশোধের মাধ্যম

অনলাইনে গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি পোশাক ও জুতা কিনছেন। মোট অনলাইন কেনাকাটার ৭০.৩ শতাংশই এই খাতের দখলে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও মুদি পণ্য। তালিকায় এর পরেই রয়েছে ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী।

আসবাবপত্র এবং আইটি পণ্যের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্যাশ অন ডেলিভারি সবচেয়ে জনপ্রিয়। প্রায় ৮৬.৮ শতাংশ ক্রেতা পণ্য হাতে পেয়ে টাকা দেন। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করেন ১৩.৯ শতাংশ গ্রাহক। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার এখনও অনেক কম।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছেন। এর ফলে অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। প্রযুক্তির প্রসারে কেনাকাটার এই মাধ্যম আরও জনপ্রিয় হচ্ছে।

লিঙ্গ, অঞ্চল ও বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণ

জরিপে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা অনলাইনে বেশি কেনাকাটা করেন। পুরুষদের কেনাকাটার হার ১৭.৫ শতাংশ এবং নারীদের ১১.৪ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকার তুলনায় শহরের বাসিন্দারা কেনাকাটায় দ্বিগুণ এগিয়ে রয়েছেন। শহরের ২০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত অনলাইন থেকে পণ্য কেনেন।

বয়সভিত্তিক হিসাবে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ৪িপ১.৪ শতাংশ মানুষ ই-কমার্স ব্যবহার করেন। পেশাভিত্তিক হিসাবে বেকারদের কেনাকাটার হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এই কেনাকাটার হার ১৮.৯ শতাংশ।

ভোগান্তি, অভিযোগ ও ডেলিভারি পদ্ধতি

অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রায় ১১.৪ শতাংশ ক্রেতা কোনো না কোনো ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন রংপুর ও চট্টগ্রামের ক্রেতারা। ঢাকা বিভাগে ভোগান্তির হার সবচেয়ে কম।

অনলাইন কেনাকাটায় প্রধান অভিযোগ হলো ভুল পণ্য পাওয়া। ভোগান্তির শিকার ক্রেতাদের ৫০.৭ শতাংশ এই অভিযোগ করেছেন। দ্বিতীয় প্রধান সমস্যা হলো পণ্যের নিম্নমান সরবরাহ করা। এছাড়া ১৯.৩ শতাংশ ক্রেতা দেরিতে ডেলিভারি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৫.৬ শতাংশ ক্রেতা কালেকশন পয়েন্ট ব্যবহার করেন। সরাসরি হোম ডেলিভারি সেবা নিয়েছেন ৩০.৬ শতাংশ গ্রাহক। শহরের এক অনলাইন ক্রেতা ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিম্নমানের পণ্য পাওয়াই ই-কমার্সের প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা দূর হলে ই-কমার্স আরও জনপ্রিয় হবে।

কেনাকাটার বাইরে থাকার কারণ ও সম্ভাবনা

দেশের একটি বিশাল অংশ এখনও অনলাইন কেনাকাটার বাইরে রয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, ৭৫.৮ শতাংশ মানুষ দোকানে গিয়ে পণ্য যাচাই করতে ভালোবাসেন। অনেকে মনে করেন অনলাইনে কেনাকাটার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে ১২ শতাংশ মানুষ এটি ব্যবহার করেন না।

গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন অনেকে। তবে জরিপের ফলাফল বলছে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য দ্রুত ছড়াচ্ছে। এই জরিপ ভোক্তা অর্থনীতির সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জগুলোও স্পষ্ট করেছে। ই-কমার্স খাতের টেকসই উন্নয়নে এই চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা প্রয়োজন।

সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2026 AjkerNewsBD

Translate »