বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে চরম সংকটে মানুষ

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব

দিশেহারা সাধারণ মানুষ, উৎপাদন খাতে ধসের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর এবার গ্রাহক পর্যায়ে এক লাফে প্রায় ১৭ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দেশের জনজীবন ও শিল্প উৎপাদন খাতে। বাড়তি খরচের চাপে থাকা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বাড়তে পারে। তীব্র গরমের মাঝেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ এখন ফ্যান চালাতেও হিসাব নিকাশ করছেন। কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, “ভর্তুকি কমানোর নামে ধাপে ধাপে ইউটিলিটির দাম বাড়ানোর বড় প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। বিদ্যুৎ খাতের চুরি ও লুটপাট বন্ধ না করে জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

“এর আগে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু আমাদের আয় এক টাকাও বাড়েনি, অনিয়মের খেসারত আমরা কেন দেব?” — রফিকুল ইসলাম, মিরপুরের বাসিন্দা

ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন খাতেও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টাকার অবমূল্যায়ন ও চলতি মূলধনের অভাবের মাঝে নতুন করে এই মূল্যবৃদ্ধি শিল্পের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলেও দেশের বিদ্যুৎ ট্যারিফে তার প্রতিফলন নেই। এর ফলে কর্মসংস্থান ও শিল্প স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিদিনের সব তাজা খবরের জন্য ajkernewsbd.com ভিজিট করুন। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সরকারি ট্যারিফ এবং নীতিমালার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিদ্যুৎ বিভাগের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট powerdivision.gov.bd দেখতে পারেন।

Translate »