
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমাদের রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের দাবি এখন প্রধান হয়ে উঠেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই নতুন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। ১৭ বছরের দুঃশাসন শেষে মানুষ এখন একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা করছে। প্রশাসনিক কাঠামো ও বিচার ব্যবস্থা রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা প্রয়োজন। জনগণের অসীম প্রত্যাশাকে বাস্তবতার সীমায় আনতে হবে। অর্থনীতির ময়দানটিও এখন অনেক বেশি কঠিন ও জটিল।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে ২০২৬ অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের স্বস্তিকে কমিয়ে দিতে পারে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও তারল্য-সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। পতিত সরকারের অবসান ঘটিয়ে নতুন শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এক্ষেত্রে বাজেট ও বিশ্বাস—উভয় হিসাব মেলাতে হবে সরকারকে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা মোকাবিলা করাই এখন বড় কাজ। রাষ্ট্র পরিচালনায় লাগে সঠিক সমঝোতা এবং নীতি-নির্ভর সিদ্ধান্ত।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুনরায় রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। দক্ষিণপন্থি রাজনীতির উত্থান ও অসহিষ্ণুতা সমাজের বহুত্ববাদী কাঠামোকে আহত করছে। সংখ্যালঘু অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কোনো আপস করা চলবে না। বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি সামলাতে কৌশলগত কূটনীতি প্রয়োজন। পোশাক শিল্প রক্ষা ও রফতানি বাজার বহুমুখীকরণ সময়ের দাবি। মেধা, শিষ্টাচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালাই হবে আগামীর শক্তি। ইতিহাস বারবার সুযোগ দেয় না, তাই নির্মাণের রাজনীতি শুরু হোক এখনই।