মেটার নতুন এআই পেন্ডেন্ট: পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিতে চমক
প্রযুক্তি ডেস্ক: স্মার্ট চশমার সাফল্যের পর এবার ওয়্যারেবলস বাজারে চমক দিচ্ছে মেটা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্টটি পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিতে আরও বড় পরিকল্পনা করছে। ২০২৫ সালের শেষভাগে তারা ‘লিমিটলেস’ নামক একটি এআই স্টার্টআপ অধিগ্রহণ করে। এবার সেই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে মেটার নতুন এআই পেন্ডেন্ট বাজারে আনার কাজ চলছে।
এই ডিভাইসটি মূলত কোনো স্ক্রিন বা ডিসপ্লে ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছে। এটি গলায় লকেট হিসেবে বা কাপড়ে ক্লিপ দিয়ে পরা যাবে। ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর সার্বক্ষণিক সহকারী বা অলওয়েজ-অন কনটেক্সট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের দৈনন্দিন লাইফস্টাইলের মেলবন্ধনে এটি নতুন যুগের সূচনা করবে। আগামী বছর থেকেই এই ডিভাইসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
এআই পেন্ডেন্টের সম্ভাব্য মূল ফিচারসমূহ
এই নতুন ডিভাইসে একটি স্মার্ট মাইক্রোফোন সিস্টেম যুক্ত থাকবে। এটি ব্যবহারকারীর চারপাশের কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করতে পারবে। এর এআই ট্রান্সক্রিপশন প্রযুক্তি রেকর্ড করা অডিওকে মুহূর্তে টেক্সটে রূপান্তর করবে। দীর্ঘ মিটিং বা কথোপকথনের মূল বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে এটি সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করবে।
ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর ইমেইল, ক্যালেন্ডার এবং অ্যাপের তথ্যের সাথে যুক্ত হতে পারবে। এর ফলে এটি যেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা মনে করিয়ে দেবে। পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় কী হতে পারে, তাও এআই-এর মাধ্যমে সাজেস্ট করবে।
মেটার ব্যবসায়িক কৌশল ও বর্তমান পরিস্থিতি
মেটা ইতোমধ্যেই বিখ্যাত চশমা ব্র্যান্ড এসিলরলুক্সোটিকার সাথে যৌথভাবে স্মার্ট গ্লাস তৈরি করেছে। বাজারে রে-ব্যান ও ওকলি ব্যান্ডের এই চশমা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মেটার নতুন এআই পেন্ডেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এতে লিমিটলেস স্টার্টআপের ভয়েস-রেকর্ডিং ও ট্রান্সক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
বর্তমানে মেটার হার্ডওয়্যার বিভাগ ‘রিয়ালিটি ল্যাবস’ বড় অঙ্কের লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিভাগটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪.০৩ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে এই বিভাগের আয় ছিল মাত্র ৪০২ মিলিয়ন ডলার। এই বিশাল লোকসান কাটিয়ে উঠতে মেটা নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা সাজিয়েছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা ও স্থানীয় প্রভাব
মেটার ওয়্যারেবলস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স হিমেল এই নতুন পরিকল্পনাটি প্রকাশ করেছেন। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ওয়্যারেবল ডিভাইস বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়্যারেবলস ফর ওয়ার্ক’ নামে বিশেষ সেবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই উদ্ভাবন নিয়ে বেশ আশাবাদী।
স্থানীয় প্রযুক্তি বাজারের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্ক্রিনবিহীন এই গ্যাজেট মানুষের কাজের গতি অনেক বাড়িয়ে দেবে। এটি মানুষের স্মার্টফোন নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। মেটার কর্মকর্তাদের মতে, লোকসান কাটিয়ে হার্ডওয়্যার বাজার দখলে এই ডিভাইসটি বড় ভূমিকা রাখবে।
সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply