সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
বুধবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল—উল্লেখ করে মাহফুজ আলম তাঁর স্ট্যাটাসে লেখেন, “বিচার বিভাগ সংস্কার, মামলাজট নিরসন এবং বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য আলাদা সচিবালয় জরুরি ছিল।”
তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশ নিয়ে কোনো ‘বাছবিচার’ বা আপত্তি থাকলে সেটা সংশোধন করা যেতে পারতো। তবে তা না করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি এটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী, জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ জন সদস্যকে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে ছক করে কর্মকর্তাদের নাম, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক পদ এবং নতুন সংযুক্ত পদের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও এর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শক্রমেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
