কেসিসিতে জরুরি সভা: ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ ও মশা নিধনে নতুন নির্দেশনা
বর্ষা মৌসুমের আগেই নগরীতে মশার উপদ্রব কমাতে ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। নগরীর এলাকায় এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক একটি জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বিশ্বজুড়ে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রশাসক পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন এবং ঈদ পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কাজে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই ধারা বজায় রেখে ডেঙ্গু মুক্ত নগরী গড়তে তিনি সবার সহযোগিতা চান।
স্থানীয় কমিটি গঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত
ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি সেক্টরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে।
সভায় জানানো হয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। সাধারণত এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায়। তাই ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব কিংবা এসির পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর লক্ষণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে আরও জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর অফিশিয়াল গাইডলাইন ও নির্দেশনা দেখতে পারেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু সন্দেহ হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। আক্রান্ত রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে। শিশুদের ফুলহাতা পোশাক পরানো এবং দিনে ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ শেখ মোঃ মোশাররফ হোসেন ও সিভিল সার্জন ডাঃ মাহফুজা খানম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া কেসিসি’র সচিব মোঃ রেজা রশীদ এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ইমাম পরিষদ ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দও সভায় অংশ নেন। ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় ও কেসিসির চলমান ক্রাশ প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের খুলনা নগর উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক পাতাটি ভিজিট করুন।
