
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। মনা বলেন, বিগত সরকারের আমলে খুলনার কলকারখানাগুলো পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে লুটপাট করা হয়েছে। এর ফলে খুলনার হাজার হাজার শ্রমিক আজ অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে শিকাগোর ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। সমাবেশে তিনি দেশনায়ক তারেক রহমানের দেওয়া এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের রূপরেখা তুলে ধরেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করে শ্রমিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মনা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদী ও পরাজিত শক্তিরা আবারও দেশের শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি শোষণমুক্ত ও সুখী বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেন তিনি। মনা আশ্বস্ত করেন যে, জাতীয়তাবাদী দল সবসময় শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মোঃ মজিবর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফী। এতে মহানগর বিএনপি ও শ্রমিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী খুলনার সব বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে বলে তিনি জানান। কর্মসংস্থানের রূপরেখা অচিরেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন। জিয়াউর রহমান নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন বলে মনা উল্লেখ করেন। ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করতে সজাগ থাকার বিকল্প নেই। খুলনার মৃতপ্রায় শিল্পনগরীকে আবার সচল করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। সমাবেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। র্যালিটি ফেরিঘাট মোড়ে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাবে।