তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন: ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়কের প্রয়াণ
জাতীয় ডেস্ক: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার ১ জুন বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই প্রবীণ রাজীতিবিদের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর স্ত্রীর বড় ভাই মামুন তালুকদার শেখ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এই প্রবীণ নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক জীবন ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি
তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ক্ষেত্রে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি ভোলা থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি বিভিন্ন মেয়াদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করেন। তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল ছাত্রলীগের মাধ্যমে। তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে তিনি শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও দীর্ঘ সংসদীয় ক্যারিয়ার
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হন। এরপর তিনি দীর্ঘ সংসদীয় ক্যারিয়ার গড়েন।
তিনি ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে তিনি অসংখ্যবার কারাভোগ করেন।
মৃত্যুর খবর ও শোকের ছায়া
আজ সোমবার বিকেলে প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। দাম্পত্য জীবনে তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদকে রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
হাসপাতালের সামনে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী কর্মী জানান, প্রিয় নেতার চলে যাওয়ার খবর শুনে তারা স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসন হাসপাতাল এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আজ সোমবার রাতেই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা শেষে প্রবীণ নেতাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। রাজনৈতিক অঙ্গন আজ একজন অভিভাবককে হারাল। তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন সংবাদটি শোনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক গণআন্দোলন
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিব বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply