মুক্তিপণ না দিলে হত্যার হুমকি, আহত ১
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: বনবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী মাছ ধরে ফেরার পথে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে ৬ জেলেকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র বনদস্যুরা। রোববার রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
দস্যুরা সুন্দরবনের ‘নানা ভাই ডন’ বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এই অপহরণ চালায়। তারা মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে জেলেদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপহরণের বিবরণ ও অপহৃতদের পরিচয়
অপহৃত জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন ইয়াছিন খাঁ, আলমগীর খাঁ ও আল আমিন মোল্লা। এছাড়াও কামরুল গাজী, শাহজাহান গাজী ও শহীদুল গাজীকে অপহরণ করা হয়েছে।
অপহৃতদের স্বজনরা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জুনের মধ্যে তাঁদের লোকালয়ে ফিরে আসার কথা ছিল। সেই শর্তে ৩০ মে কদমতলা স্টেশন থেকে কাঁকড়া ধরার পাস নেন তাঁরা। পাঁচটি নৌকায় ১৮ জন জেলে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।
বাড়ি ফেরার পথে তারা মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়িয়া খাল ও সুবদে খাল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় সশস্ত্র ডাকাতরা আকস্মিক হামলা চালিয়ে এই সুন্দরবনে ৬ জেলে অপহরণ এর ঘটনা ঘটায়। পরবর্তীতে দস্যুরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে।
দস্যুদের হামলা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ
অপহরণের সময় বাধা দেওয়ায় ইসমাইল খাঁ নামের এক জেলের মাথা ফাটিয়ে দেয় দস্যুরা। নৌকার বৈঠা দিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে জখম করা হয়। আহত ইসমাইল খাঁকে সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক প্রত্যক্ষদর্শী জেলে জানান, দস্যুরা অত্যন্ত হিংস্র ছিল। তারা রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। চোখের সামনে থেকে তারা ছয়জনকে নৌকায় তুলে নিয়ে গহীন জঙ্গলের দিকে চলে যায়। দস্যুদের মারধরে অন্য জেলেও আহত হয়েছেন।
বনবিভাগ ও পুলিশের বক্তব্য
সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, এই অপহরণের বিষয়ে তাঁদের কাছে এখনও কোনো তথ্য নেই। অপহৃতদের পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত তাঁদের বিষয়টি অবহিত করেননি।
তবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানান, থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুন্দরবনে ৬ জেলে অপহরণ এর ঘটনায় এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।
সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
- সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের জীবন ও জীবিকার আইনি অধিকার
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply