খুলনা প্রতিনিধি: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও লোকতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এই মন্তব্য করেন।
বুধবার ৩ জুন ২০২৬ বিকেল ৫টায় দলীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সদর থানা বিএনপির উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচি পালিত হয়। আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য দেন।
রাজনৈতিক সংস্কার ও স্বাধীনতার ঘোষণা
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ভয়াল সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি পুরো জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে জনগণের মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণকে তিনি সর্বদা সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, গ্রামীণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা। ক্ষমতায় থাকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পখাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন। কৃষিকে উৎপাদনমুখী করতে তিনি দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
এই কর্মসূচি দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এক অনন্য ও স্মরণীয় ভূমিকা পালন করে। তিনি গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষকে বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে চাষাবাদে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতেন। তাঁর এই সময়োপযোগী প্রচেষ্টায় দেশে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠা
শফিকুল আলম মনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শহীদ জিয়ার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা তাঁরই অবদান। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছিল।
তিনি এমন একটি আত্মনির্ভরশীল ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, যা বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসন পাবে। শহীদ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে দেশের নতুন প্রজন্মের আরও বেশি গবেষণা করা প্রয়োজন। তাঁর জীবন, কর্ম ও রাষ্ট্রচিন্তা থেকে তরুণ সমাজকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করাই মুক্তির একমাত্র পথ বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যাপক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও দোয়া মাহফিল
সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সভাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে দলীয় কার্যালয়ে তিল ধারণের কোনো জায়গা ছিল না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা নারগিস আলী, আবু সাইদ শেখ ও এ্যাড. হালিমা খানম। এছাড়াও শফিকুল ইসলাম শফি, শরিফুল ইসলাম টিপু ও মিজানুর রহমান মিলটন এতে অংশ নেন। মোঃ নাসির উদ্দিন, মনিরুজ্জামান মনি ও আফসার উদ্দিন মাস্টার সভায় উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইফতেখার হোসেন বাবু, শরিফুল ইসলাম জোয়াদ্দার জলি ও মাসুদুল হক হারুন অংশ নেন। নুরুল আলম দীপু, জাহাঙ্গীর হোসেন, মঞ্জুরুল আলম ও আমীন আহমেদ এতে যোগ দেন। জহিরুল ইসলাম খান জুয়েল, সওগাতুল আলম ছগির ও মোল্লা নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কে এম মাহবুব আলম, মঈনুল ইসলাম কিরণ ও জিয়াউর রহমান খান আপন সভায় ছিলেন। এ কে এম সেলিম, মৌফারসের আলম লেনিন ও মাস্টার রফিকুল ইসলাম এতে যোগ দেন। সৈয়দ আজাদ, জামির হোসেন দীপু, মেহেদী হাসান লিটন ও সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ময়েজ উদ্দিন চুন্নু, ডাঃ রাহাত, জি এম মঈনুদ্দিন ও শামিমুজ্জামান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ডাঃ আব্দুস সালাম, রাশিদা আক্তার ময়না, ইরিনা আক্তার ও আমীন শেখ উপস্থিত ছিলেন। ফয়েজ আহমেদ, হাসিব চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম ও মনির khan কর্মসূচিতে যোগ দেন।
বাবুল জোমাদ্দার, শহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। আব্দুল আলীম, জাহিদ তালুকদার, রমজান খলিফা ও শেখ নাসির উদ্দিন এতে অংশ নেন। শেখ মোস্তফা, রওনক হোসেন, লুবনা, বৃষ্টি, মিনা সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মোনাজাতে শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল বেশ লক্ষ্যণীয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এর স্মরণে নেতাকর্মীরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেন।
