খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন: ঘরের ভেতর মরদেহ রেখে ৩ দিন অবস্থান
খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় নানি ও দুই নাতিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে এসেছে। ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর কাহিনী। খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
হত্যাকাণ্ডের পর টানা তিন দিন তিনটি মরদেহ ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। লাশ ঘরের ভেতর রেখেই পাশের কক্ষে অবস্থান করছিলেন নিহত দুই শিশুর মা ও সৎ বাবা। ঘাতক রফিকুল ইসলাম ও মা ফাতেমা বেগম মেরি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
হত্যার নৃশংস কৌশল ও লাশ উদ্ধার
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে শুক্রবার গভীর রাতে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার আগে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করা হয়েছিল। ফলে কেউ চিৎকার করতে পারেনি। পরে একে একে তিনজনকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
শনিবার ৩০ মে সন্ধ্যার আগে নিহত বেবি বেগমের বোন রেনু বেগম ওই বাসায় আসেন। ঘর তালাবদ্ধ দেখে তিনি মেরি ও রফিকুলকে ডাকাডাকি করেন। এ সময় ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে রফিকুল একে ‘মৃত ইঁদুরের গন্ধ’ বলে চালিয়ে দেয়। রেনু বেগমের সন্দেহ হলে তিনি জোরপূর্বক ঘরের তালা কাটার চেষ্টা করেন।
বেগতিক দেখে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক রফিকুল। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের খাটের নিচে নানি বেবি বেগমের মরদেহ পায়। ট্রাংকের ওপর থেকে বড় নাতি শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডি সদস্যরা ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে ৪ বছরের শিশু মুস্তাকিমের লাশ উদ্ধার করেন।
মাদকাসক্তি ও সৎ সন্তানদের প্রতি ক্ষোভ
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদক ও সৎ সন্তানদের প্রতি ক্ষোভের বিষয়টি সামনে এসেছে। পেশায় আন্তঃজেলা ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম চরম মাদকাসক্ত ছিলেন। রফিকুল নিয়মিত ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা সেবন করতেন। খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বিয়ের পর রফিকুল প্রায়ই শাশুড়ির বাসায় এসে থাকতেন।
শাশুড়ি বেবি বেগম এই মাদকসেবন পছন্দ করতেন না। সৎ দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকীমকে রফিকুল একদম অপছন্দ করতেন। এই নিয়ে ঘরে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত। আটক মেরি বেগম স্বীকার করেছেন, শুক্রবার রাতে রফিকুল চরম মাতাল অবস্থায় ছিলেন। ঘটনার পর থেকে রফিকুল পলাতক রয়েছেন।
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য
নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম বেপারী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য মেরি ও রফিকুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে রফিকুলকেই প্রধান সন্দেহভাজন মনে করা হচ্ছে। শাশুড়ির সাথে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত রফিকুলকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
- খুলনা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের বিশেষ অপরাধ দমন অভিযান
- বাংলাদেশে মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতার আইনি প্রতিকার
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply