শিশু ফাতেমাকে হত্যার পর মাজারের কুমির এখন খুলনায়
বাগেরহাট: বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে উদ্ধার করা মানুষখেকো খানজাহান আলীর মাজারের কুমির -টিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র এবং করমজল প্রজনন কেন্দ্রের একটি যৌথ দল জেলা প্রশাসনের সহায়তায় কুমিরটিকে খুলনায় পাঠায়। খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৪ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর সেটিকে সুন্দরবনের করমজলে রাখা হবে।
এর আগে, সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজারের দিঘিতে গোসল করার সময় ৮ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ১০ এপ্রিলও এই দিঘির প্রধান ঘাটে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যায়।
“কুমিরটি হঠাৎ করেই শিশু ফাতেমার পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। আমাদের চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় আমরা মাজারের দিঘি নিয়ে আতঙ্কে আছি।” — মো. ইব্রাহিম হোসেন, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি বৈঠকে কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, “দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে আমাদের কেন্দ্রে আনা হয়েছে। বর্তমানে এর আচরণ ও শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
খুলনা ও বাগেরহাটের বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত এমন আরও খবরের নিয়মিত আপডেটের জন্য ajkernewsbd.com ভিজিট করুন। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও করমজল কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ বন বিভাগের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট bforest.gov.bd দেখতে পারেন।
