বেনজীরের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ: আরাভ খানের মতোই জটিলতা!

বেনজীরের প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ

আরাভ খানের মতোই কি থেমে যাবে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ?

দুবাইতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে আইনি মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের এই সাবেক মহাপরিচালককে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বেনজীরের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে তার সেরা করদাতার পুরস্কার ও পাসপোর্টের জটিলতা। আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বহুল আলোচিত দুবাইপ্রবাসী আরাভ খানের মতোই বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটিও কয়েক দিন বেশ আলোচনা ও দৌড়ঝাঁপের পর আইনি মারপ্যাঁচে থমকে যেতে পারে।

সেরা করদাতার পুরস্কারই বেনজীরের প্রধান আইনি হাতিয়ার

বেনজীর আহমেদের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুবাই আদালতে করা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে তারা একটি বিশেষ আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সরকার তার বিরুদ্ধে যেসব জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে, তার অধিকাংশেরই নিয়মিত কর পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন তার আইনজীবী।

বেনজীর আহমেদ তার চাকরিজীবনের শুরু থেকে টানা ২৮ বছর নিয়মিত কর প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর ময়মনসিংহ কর অঞ্চল থেকে ‘দীর্ঘমেয়াদি সেরা করদাতা’ পুরস্কার পান। দুবাই আদালতে এই করের নথিপত্র ও পুরস্কারের কাগজপত্র প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দাখিল করা হবে। আইনজীবীদের দাবি, করের সঠিক নথিপত্র জমা দিলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো দুর্নীতি মামলার ভিত্তি দুবাই আদালতের কাছে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে এটিই এখন বেনজীরের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সামনে বড় বাধা।

আরাভ খানের নজির ও দুবাই আইনের জটিলতা

পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি (NCB) শাখায় কর্মরত সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুবাই সরকারের প্রচলিত কঠোর আইন অনুযায়ী তদন্তাধীন মামলার আসামিকে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। কারণ, দুবাই আদালতে প্রত্যর্পণের জন্য আদালতের চূড়ান্ত রায় বা দণ্ডাদেশের সত্যায়িত অনুলিপি প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো এখনও তদন্তাধীন এবং অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত নয়।

তুলনামূলক বিশ্লেষণপলাতক আসামি: আরাভ খানগ্রেফতারকৃত আসামি: বেনজীর আহমেদ
আইনি স্থিতিপরিদর্শক হত্যা মামলায় আদালতে দণ্ডিত ও পরোয়ানাভুক্তদুদকের সম্পদ ও মানি লন্ডারিং মামলায় তদন্তাধীন
পাসপোর্ট ও পরিচয়ভারতীয় পাসপোর্ট (বাংলাদেশি পরিচয় বহন করেন না)বাংলাদেশি পরিচয় বা পাসপোর্ট বর্তমানে সচল নেই
বর্তমান অবস্থাবিগত ৩ বছর ধরে দুবাইতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ সত্ত্বেও মুক্তবর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন/আটকে

২০২৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশ হত্যা মামলার আসামি আরাভ খানকে ফিরিয়ে আনার জন্য ২৪ পৃষ্ঠার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এফআইআর এবং ভারতীয় পাসপোর্টের অনুলিপিসহ আরবি ভাষায় নথিপত্র জমা দিলেও দুবাই প্রশাসনের কাছ থেকে সবুজ সংকেত মেলেনি। বেনজীরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে, কারণ এই মুহূর্তে তার কাছেও কোনো সক্রিয় বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই।

আন্তর্জাতিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং এই সংক্রান্ত সরকারি কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আপনারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) এর অফিশিয়াল পোর্টালে চোখ রাখতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা দুবাইয়ের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত এই হাই-প্রোফাইল আসামিকে দেশের মাটিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

Translate »