খুলনায় আনন্দের বন্যা :
বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত শফিকুল আলম তুহিনকে নিয়ে এখন পুরো খুলনা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বহুল প্রতীক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী শফিকুল আলম তুহিন। রোববার (৭ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় পদে শফিকুল আলম তুহিন বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এই বিজয়কে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।
খুলনাবাসীর জন্য এক অনন্য গৌরব ও অর্জন
রোববার (৭ জুন) মহানগর বিএনপি প্রদত্ত এক যৌথ অভিনন্দন বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ এই আনন্দের কথা প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত ক্রীড়া সংস্থায় দায়িত্বশীল পদে খুলনার কোনো প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়াটা অত্যন্ত গৌরবের।
নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এটি দেশের সামগ্রিক ক্রিকেটের মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত শফিকুল আলম তুহিন তার যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে ক্রিকেট বোর্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে সবার বিশ্বাস।
দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, শফিকুল আলম তুহিনের দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের ক্রীড়াপ্রেমী মানসিকতা দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে। বিশেষ করে খুলনাসহ সারা দেশের তৃণমূল ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন।
তৃণমূল থেকে নতুন নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় দলে ক্রিকেটার সরবরাহের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে তিনি কাজ করবেন বলে নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা করেন। একই সাথে বিবৃতিদাতারা তাঁর এই নতুন পথচলায় সার্বিক সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
শীর্ষ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রাণঢালা অভিনন্দন
শফিকুল আলম তুহিনের এই গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের জাতীয় পর্যায়ের এবং খুলনার শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। অভিনন্দন জ্ঞাপনকারী বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন:
- আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ।
- আজিজুল বারী হেলাল: জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য (খুলনা-৪ আসন)।
- আলী আসগার লবি: জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য (খুলনা-৫ আসন)।
- এড. শফিকুল আলম মনা: সভাপতি, খুলনা মহানগর বিএনপি।
- আমির এজাজ খান: জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য (খুলনা-১ আসন)।
- মনিরুজ্জামান মন্টু: আহ্বায়ক, খুলনা জেলা বিএনপি।
- মনিরুল হাসান বাপ্পী: সদস্য সচিব, খুলনা জেলা বিএনপি ও প্রশাসক, খুলনা জেলা পরিষদ।
এছাড়াও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে শেখ সাদী, মো. মাসুদ পারভেজ বাবু ও চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ এই বিজয়ে আনন্দ প্রকাশ করে পৃথক শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন।
থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বার্তা
কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি খুলনার বিভিন্ন থানা পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত বিসিবি পরিচালককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তৃণমূলের এই জোয়ার প্রমাণ করে যে ক্রীড়াঙ্গনে তার জনপ্রিয়তা কতটা সুদৃঢ়।
খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা
খুলনা সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবীর ও সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ এক যৌথ বিবৃতিতে শফিকুল আলম তুহিনের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। অন্যদিকে সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এই বিজয় খুলনার ক্রীড়া পরিকাঠামো বদলে দিতে সাহায্য করবে।
খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এড. শেখ মোহাম্মাদ আলী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান বিশ্বাস নবনির্বাচিত পরিচালককে অভিনন্দন জানান। দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি এম. মুর্শিদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন এবং খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ পৃথক বিবৃতিতে শফিকুল আলম তুহিনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।
তৃণমূল ক্রিকেটের নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
ক্রীড়াবোধ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত শফিকুল আলম তুহিন দীর্ঘদিন ধরেই খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ। স্থানীয় ক্রিকেট কোচ ও খেলোয়াড়দের মতে, ক্রিকেট বোর্ডে তার অন্তর্ভুক্তি খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। মাঠের উন্নয়ন, স্থানীয় লীগ নিয়মিতকরণ এবং তরুণ ক্রিকেটারদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে তার এই নতুন অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সবাই আশাবাদী।
