শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প: ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প

১৩ বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, কেডিএতে আতঙ্ক

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) নির্মাণাধীন শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প-এর ধীরগতি ও অনিয়ম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৩ বছরেও ৩ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় গত বুধবার একনেক সভায় তিনি গভীর অসন্তোষ জানান এবং এর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন কড়া নির্দেশনার পর কেডিএ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

২০১৩ সালে প্রথম অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা থাকলেও, দীর্ঘসূত্রতার কারণে তৃতীয় দফায় সংশোধন করে তা এখন ২৮০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে সড়কটির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক কাজও শেষ করতে না পারায় ২০২৫ সালের আগস্টে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মাহাবুব ব্রাদার্স’-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কেডিএ। এরপর নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলেও মূল্যায়ন কমিটি অংশগ্রহণকারীদের অযোগ্য ঘোষণা করায় স্থবিরতা আরও বাড়ে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প

মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকায় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী খুলনার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

তবে প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প-এর পরিচালক মো. আরমান হোসেন জানান, একনেক সভার আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কের বাকি কাজ শেষ করতে নতুন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মাধ্যমে সরকারের ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে সংশোধিত প্রকল্পটি একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সড়কের চার লেনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:

Translate »