দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে: লালদিঘীতে চরম হুঁশিয়ারি!

দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের মহাসমাবেশে জামায়াত আমিরের হুংকার

দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে বলে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা মূলত গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থি।

ভিন্নমতাবলম্বী দমন ও সংসদীয় প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংকট তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং চরম দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন,

“সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ হলো জনগণের কথা বলার মূল জায়গা।”

ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে রক্ষা করবে। দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে এবং দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে—এমন অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে একটি প্রকৃত জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের ঐক্যের ডাক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে এই মহাসমাবেশে দেশের অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য রাখেন:

  • আল্লামা মামুনুল হক: তিনি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পরিহার করে জনমতের বিপরীতে অবস্থান না নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
  • মাওলানা মুসা বিন ইজহার (নেজামে ইসলাম পার্টি): গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সব ধরনের টালবাহানা বন্ধের দাবি জানান তিনি।
  • ড. কর্নেল অলি আহমদ, বীর বিক্রম (এলডিপি): তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
  • নাহিদ ইসলাম এমপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ): জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেন।

এছাড়াও সমাবেশে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিডিপির অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ জোটের একঝাঁক শীর্ষ নেতা বক্তব্য রাখেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সংসদীয় বিরোধী দলের বিভিন্ন আইনি অধিকার ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনারা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এর অফিশিয়াল পোর্টালে চোখ রাখতে পারেন। নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভয়ভীতি বা মামলার হুমকি দিয়ে রাজপথের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।

Translate »