মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা: জয়মনিরঘোলে ফাঁকা গুলি ও যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান
মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনিরঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি ভাসমান স্টেশনে অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় কোস্ট গার্ডের ৩ জন সদস্য সহ অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে ওই অঞ্চলে যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের দাবি: চোরাকারবারি ও দুষ্কৃতকারীদের হামলা
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জয়মনিরঘোলে এই ভাসমান স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। এই স্টেশনটি চালু হওয়ার পর থেকে সুন্দরবনের দস্যু ও চোরাকারবারিদের রসদ, লজিস্টিকস এবং অস্ত্র সরবরাহের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বেশ কিছুদিন ধরে কোস্ট গার্ডের এই স্টেশনটি উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় একদল দুষ্কৃতকারী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রলার ও নৌকা যোগে স্টেশনে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় সরকারি সম্পত্তি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের হামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাহিনীর চলমান সফল অপারেশন বন্ধ করা যাবে না। মূলত এই মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
নিখোঁজ যুবক ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের ভিন্ন দাবি
এদিকে স্থানীয় সূত্রে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি তথ্য পাওয়া গেছে। জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ নামের এক যুবক গত দুই মাস (১০ এপ্রিল থেকে) ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের দাবি, কোনো এক বাহিনীর সদস্যরা সিভিল পোশাকে তাকে তুলে নিয়ে এই ভাসমান স্টেশনে রেখেছিল এবং এরপর থেকেই মিরাজ নিখোঁজ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিখোঁজ মিরাজের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা বেগম এবং বোন লিজা ইসলামসহ তাদের স্বজন ও গ্রামবাসীরা ওই স্টেশনে মিরাজের খোঁজ নিতে যান। সেখানে কোস্ট গার্ড সদস্যদের সাথে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষের পর আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে জয়মনি ঠোটা এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। কোস্ট গার্ড তাদের স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ ঘটনায় মামলা হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (Bangladesh Coast Guard) এর অফিশিয়াল আপডেট জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে এলাকায় পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের কড়া নজরদারি ও যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
