তালায় সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি: ধুলাবালির ওপর কার্পেটিং, বাতাসে উড়বে রাস্তা!
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘তালা-সুভাষিনী বাজার হয়ে জাতপুর সিসি সড়ক’ সংস্কার কাজে চরম অনিয়ম ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সিডিউল বা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ধুলাবালি ও ময়লার আস্তরণের ওপর তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং সীলকোট দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সড়কটির পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের উৎসব চলছে। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গেলে তালায় সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি-র এই বাস্তব ও কদর্য চিত্র চোখে পড়ে।
ধুলাবালির ওপর পিচ ঢালাই ও শুভঙ্করের ফাঁকি
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন এই সড়ক সংস্কারে শুরু থেকেই চরম গাফিলতি চলছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, কার্পেটিং করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে নির্দিষ্ট নিয়মে প্রাইমকোট (বিটুমিনের তরল স্তর) প্রয়োগ করে তার ওপর পাথর-বিটুমিন ফেলতে হয়।
কিন্তু এই প্রকল্পে প্রায় দুই দিন আগে প্রাইমকোট দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছিল। ফলে এই দুই দিনে সড়কের ওপর যানবাহনের চাকার ধুলা ও ময়লার পুরু আস্তরণ জমে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই ময়লা পরিষ্কার না করেই সরাসরি তার ওপর পিচ ঢালাই দিচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ করায় সামান্য বৃষ্টি বা ভারী গাড়ি গেলেই পুরো কার্পেটিং উঠে সড়কটি ধসে পড়বে।
ঠিকাদার লাপাত্তা ও এলজিইডি কর্মকর্তার ‘আজব’ যুক্তি
এই অনিয়ম ও লুটপাটের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসু ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী কল্যাণ বসুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দুর্নীতি ফাঁসের ভয়ে তিনি এক প্রকার গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে, অনিয়ম ঠেকাতে যেখানে এলজিইডি কর্মকর্তাদের তৎপর থাকার কথা, সেখানে উল্টো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তালা উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল কুমার শীল অবলীলায় এক আজব সাফাই গেয়ে বলেন, “প্রাইমকোট দুই দিন আগে দেওয়া হলেও কাজে কোনো সমস্যা হবে না।” তবে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা মুখ বন্ধ রাখেন।
তালায় সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ এভাবে অপচয় হতে দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন জাতপুর ও সুভাষিনী এলাকার সাধারণ মানুষ। এই ত্রুটিপূর্ণ ও ফাঁকিবাজির কাজ বাতিল করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এর সিডিউল অনুযায়ী নতুন করে টেকসই কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
