ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলো।
এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে এবং তা কোনোভাবেই বিদেশে হস্তান্তর করা হবে না।
রয়টার্স বলছে, খামেনির এই কঠোর নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বেশ হতাশ করতে পারে।
একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
ট্রাম্প ইসরাইলকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুত চুক্তির শর্তানুযায়ী দেশের বাইরে পাঠানো হবে।
পশ্চিমাদেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ এনে আসছে।
তারা বলছে, তেহরান ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।
তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির এই পশ্চিমা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করে আসছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে।
তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, এই উপাদান বিদেশে পাঠালে দেশী নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এদিকে সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানে নতুন খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন খসড়া প্রস্তাব ও হুমকির মুখে কঠোর কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বলপ্রয়োগ করে বা হুমকি দিয়ে ইরানকে কখনোই আত্মসমর্পণ করানো যাবে না।
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply