বাজেটে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া: চরম সংকটের শঙ্কা!

বাজেটে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

বাজেটে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া: ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী ও বামপন্থী দলের শীর্ষ নেতারা এই বাজেটকে উচ্চাভিলাষী, স্বপ্নবিলাসী এবং গতানুগতিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি রেখে এই বিশাল বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে। তবে কয়েকজন নেতার মতে, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য খাত ও মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির কারণে বাজেটটি আংশিক জনবান্ধব।

বাজেট নিয়ে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের কঠোর মূল্যায়ন

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন:

  • আ স ম আবদুর রব (জেএসডি): তাঁর মতে, বাজেটে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান সংকট ও আয়বৈষম্য মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
  • মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য): বাজেটটিকে ‘স্বপ্নবিলাসী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বড় ঘাটতি পূরণের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। তবে এত কিছুর পরও সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।
  • ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (জাতীয় পার্টি): তিনি মনে করেন এই বাজেট কোনোভাবেই বাস্তবায়নযোগ্য নয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সরকারকে উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্যও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।
  • রুহিন হোসেন প্রিন্স (সিপিবি): এটিকে একটি উচ্চাভিলাষী ঘাটতি বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রধান প্রশ্ন মূল্যস্ফীতি কমবে কি না, যার সঠিক উত্তর বাজেটে নেই।

এভাবে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে বাজেটে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া আসায় দেশজুড়ে এখন নতুন অর্থনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ঋণের বোঝা ও করের চাপ নিয়ে উদ্বেগ

বামপন্থী ও অন্যান্য দলের নেতারা বাজেটের অর্থসংস্থান প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ তথ্য তুলে ধরে বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকাই ঘাটতি। এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই চলে যাবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা বাজেটের একক বৃহত্তম খাত।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক মনে করেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে উৎসাহ দেবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দেবে।

ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বাজেটটিকে ‘আশাবাদে ভারাক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। বাজেটের এই চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনারা আইন ও বিচার বিভাগ এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখতে পারেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, ৬ লাখ ৯৫… হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাই হবে এই সরকারের জন্য আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

Translate »