২৬২ জন শিক্ষকের জাল সনদ শনাক্ত ও অর্থ আদায়ের সুপারিশ

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৬২ জন শিক্ষকের জাল সনদ শনাক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। শনাক্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ২৫১ জনেরই শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ভুয়া। বাকি ১১ জনের অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল পাওয়া গেছে। এই শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছিলেন।

ডিআইএর প্রতিবেদনে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম এই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। মূলত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিআইএ নিয়মিত পরিদর্শন করে। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে আরও ৪৭১ জন শিক্ষকের জাল সনদ মিলেছিল। ভুয়া শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত তদন্তে এসব শিক্ষকের জাল সনদ শনাক্ত হওয়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রহণ করা ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। ডিআইএ এই তালিকা চূড়ান্ত করে গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ভুয়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও বিপিএড সনদের তথ্যও পাওয়া গেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ডিআইএ পরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জালিয়াতি করে শিক্ষকতা করার সুযোগ আর থাকছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

Translate »