তীব্র তাপদাহে মাছের মড়ক: বিপাকে খুলনার চিংড়ি চাষিরা

বিপাকে চিংড়ি চাষিরা

খুলনার ডুমুরিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র তাপদাহে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি ও জ্বালানি সংকটে ঘেরের পানি শুকিয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। মাছচাষি আশিষ কুমারের আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার ঘেরের মাছ মারা গেছে। বৃষ্টির অভাবে খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকটে চাষিরা ঘেরে পানি দিতে পারছেন না। মাছ রক্ষায় মাচা বানিয়েও কোনো ফল মিলছে না।

ডুমুরিয়া উপজেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে মাছ চাষ হয়। এখানকার ৮৫ শতাংশ মানুষ মৎস্য চাষের ওপর নির্ভরশীল। গত মৌসুমে কয়েকশ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছিল। তবে এবার প্রচণ্ড গরমে সব স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। পানির উচ্চতা কমে যাওয়ায় অক্সিজেন সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে মাছের মড়ক আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চাষিরা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঘেরে বিনিয়োগ করেছেন। এখন সেই ঋণ শোধ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

ঘেরগুলোতে বর্তমানে তীব্র তাপদাহে মাছের মড়ক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। মৎস্য অফিসের মতে ঘেরে অন্তত তিন ফুট পানি থাকা জরুরি। পানি গরম হয়ে যাওয়ায় মাছ বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পোনা ও খাবারের দাম বাড়ায় চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির দেখা না মিললে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। জেলার পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। চিংড়ি শিল্পের এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

Translate »