
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন, যার মাধ্যমে দেশের সিটি করপোরেশনের তালিকায় যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর বগুড়া।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে বগুড়ায় পৌঁছে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণার পরপরই শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থানের কারণে এ শহরের ওপর নির্ভরশীল আশপাশের বহু জেলা। তবে এতদিন নগর সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অভিযোগ ছিল নাগরিকদের।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের প্রাচীনতম পৌর প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত হয়ে এর আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পথ তৈরি করে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই মর্যাদার ফলে বড় আকারে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক সম্প্রসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শুধু ঘোষণা নয়—বাস্তবায়নই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সিটি করপোরেশন হওয়ায় বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বগুড়ার সিটি করপোরেশন ঘোষণা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে এই পরিবর্তনের সফলতা।