
রাজধানীসহ সারা দেশে তীব্র আকার নিয়েছে সয়াবিন তেল সংকট। বাজারে বোতলজাত তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনছেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, চারটি দোকান ঘুরেও বোতলজাত তেল পাননি, পরে বেশি দামে খোলা তেল কিনতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তেজকুনিপাড়ার মনিরা আক্তারের। তিনি বোতলজাত তেল পেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে সয়াবিন তেল সংকট শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ খুচরা দোকানে বোতলজাত তেল নেই। কোথাও পাওয়া গেলেও তা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০-১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতল ৯৬০ থেকে ৯৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকারি দাম ৯৫৫ টাকা। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫-১৯৮ টাকা এবং পামঅয়েল ১৮৪-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, দেশে তেল আমদানিতে বড় কোনো ঘাটতি নেই। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সয়াবিন ও পামঅয়েল আমদানি হয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তেল কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত সরবরাহ দিচ্ছে না। অন্যদিকে কোম্পানিগুলো দাবি করছে, তারা নিয়মিত সরবরাহ বজায় রেখেছে। টি কে গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপ-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে তারা লোকসান দিয়েও বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছেন।
ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। তাদের মতে, মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দাবি করেছে, আগের তুলনায় বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে এবং নিয়মিত তদারকি চলছে। খুব শিগগিরই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা, মজুদদারি এবং তদারকির ঘাটতি—সব মিলিয়ে সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।