
মুরাদনগর ইটভাটা অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ইটভাটা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত নেতা জালাল হাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইটভাটা মালিকরা দাবি করছেন, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ-এর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে জালাল হাজী ব্রিকফিল্ড ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করেন। একটি প্রীতি ভোজের আয়োজনের পর থেকেই তার প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং পরে তিনি উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে মুরাদনগর ইটভাটা অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর বক্তব্যে। তাদের অভিযোগ, ব্রিকফিল্ড কেনাবেচা কিংবা পরিচালনার ক্ষেত্রে জালাল হাজীর মাধ্যমে বড় অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া গোমতী নদীর বাঁধ থেকে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। ফলে প্রশাসনিক নজরদারি থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, জালাল হাজীর নিজস্ব মদিনা ব্রিকফিল্ডের জন্য ফসলি জমি ও নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন বাড়ছে এবং কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের মতে, এভাবে মাটি কাটলে বাঁধের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জালাল হাজীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।