
প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খুলনায় লোডশেডিং পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় অন্তত ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শহরে কিছুটা সহনীয় হলেও গ্রামে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গরম বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ে। তবে এবার জ্বালানি সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাপমাত্রা না কমলে দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় খুলনায় লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনে লোডশেডিং বেড়েছে এবং তাপদাহের কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ সবাই বিপাকে পড়েছেন।
সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিস সময় কমানো ও শপিংমল দ্রুত বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বাস্তবে লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। কয়লার সরবরাহ বাড়িয়ে দ্রুত উৎপাদন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানিও চাপ সৃষ্টি করছে। সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কর্মজীবী মানুষরা বলছেন, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া ও খাবার সংরক্ষণে সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, খুলনায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে এবং তাপদাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে কয়েকশ মেগাওয়াট কম সরবরাহ থাকায় বাধ্য হয়ে ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং করা হচ্ছে।