হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করল ইরান: ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সংহতি

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে ইরান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

আব্বাস আরাঘচির ঘোষণা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানান, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমানে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারবে। মূলত লেবাননের শান্তিপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ইরান এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে তিনি একটি বিশেষ শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন:

“জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের ‘পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন’ কর্তৃক ইতিপূর্বে ঘোষিত ও সমন্বিত রুট বা পথটি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।”

নেপথ্যে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা

এর আগে গতকাল লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে এই ১০ দিনব্যাপী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সফল আলোচনার পর দুই দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে। মার্কিন সময় অনুযায়ী গতকাল বিকেল ৫টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা) থেকে এই বিরতি কার্যকর হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ বা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছিল।

এর প্রভাবগুলো হলো:

  • জ্বালানি নিরাপত্তা: বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি খুলে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
  • বিশ্ব অর্থনীতি: পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে।
  • কূটনৈতিক গুরুত্ব: ইরানের এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ অস্থিরতার পর এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং নৌপথ উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তটি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সুসংবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।