
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে গণহত্যা চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম । এই ঘটনায় ৩২ জনকে হত্যার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা । দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তদন্তের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে । চলতি মাসেই তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে সক্ষম হবে বলে জানানো হয়েছে । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২০ থেকে ২৫ জন এই মামলায় আসামি হতে পারেন । তদন্তের স্বার্থে এখনই সব আসামির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না । শাপলা চত্বরের এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে প্রসিকিউশন । ঘটনার সময় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে ।
মামলায় প্রাথমিকভাবে শেখ হাসিনাসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে । এর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুসহ চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন । সাবেক আইজিপি শহীদুল হক এবং বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানও গ্রেপ্তার আছেন । এছাড়া পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন । পলাতক আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও ইমরান এইচ সরকার রয়েছেন । সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে । ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে । ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় পর ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে ।
তদন্ত সংস্থা ২০১৩ সালের ৫ মে গণহত্যা চালানো সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে । চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গত রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন । গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে । পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে । রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । মামলাটি বর্তমানে মিস কেস হিসেবে ট্রাইব্যুনালে নথিবদ্ধ রয়েছে । চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে । ইতিহাসের এই নৃশংস ঘটনার সত্য উদঘাটনই এখন ট্রাইব্যুনালের মূল লক্ষ্য ।