
শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনায় ভারতের ভারত কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায়। গত শুক্রবার রণধীর জয়সওয়াল, যিনি ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর মুখপাত্র, বলেন—“আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি” এবং “সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।” এই বক্তব্যেই ভারতের সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখানে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একে ‘Strategic Ambiguity’ বলা হয়—যেখানে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য দরজা খোলা রাখা হয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারত কূটনৈতিক অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করেছে, যাতে পরিস্থিতি যেদিকেই মোড় নিক, তাদের কৌশলগত স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।
বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার। তাই ভারত এমন কোনো বক্তব্য দিতে চায় না, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যে ‘জুডিশিয়াল প্রসেস’ বা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান না নিয়ে বিষয়টিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে—যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি পন্থা।
ভারত বরাবরই বলে থাকে যে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তারা সম্ভাব্য সমালোচনা বা অভিযোগ এড়াতে চায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিক জানান, শেখ হাসিনা-এর সরকারের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও মাথায় রাখছে নয়াদিল্লি। ফলে তারা এমন অবস্থান নিচ্ছে, যাতে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকে।
অন্যদিকে, চলতি মাসে খলিলুর রহমান ভারতের সফরে গিয়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—পাকিস্তান-এর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের কারণে কি এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে? নাকি জাতিসংঘে ভারতের সমর্থন পাওয়ার কৌশল হিসেবেই এই নীরবতা?
ভারতের পররাষ্ট্র নীতির বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন:
👉 https://www.mea.gov.in