
নাসিরনগরের মেদির হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যায় আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। আগাম বানের পানিতে তলিয়ে থাকা ধানগুলোতে ইতোমধ্যে পচন ধরতে শুরু করেছে। কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তাঁর ১৫ কানি জমির ধান এখনো পানির নিচে তলীয়ে আছে। বর্তমানে একমন ধানের দাম ৬শ’ টাকা হলেও শ্রমিকের মজুরি ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। মজুরি বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক পানির নিচ থেকে ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। বছরে একটি মাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৩০ ভাগ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নতুন জাতের ধান চাষ করায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ করবে। কিন্তু ধান কাটার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে প্রান্তিক চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ বা জনপ্রতিনিধিদের পাশে না পেয়ে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের বোঝা কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত।
হাওরাঞ্চলে বর্তমানে তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা ধান পানির নিচে পচে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। কৃষক নারায়ণ দাস জানান, দুই সপ্তাহ সময় পেলে তিনি সব ধান ঘরে তুলতে পারতেন। পানির নিচে থাকা ধান কেটে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হওয়ায় কৃষকরা হতাশ। কৃষিবিদ ড. মোস্তফা এমরান জানান, অকাল বন্যায় সামগ্রিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় বড় প্রভাব পড়বে না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান সংগ্রহ করলে প্রকৃত কৃষকরা লাভবান হবেন বলে জানানো হয়েছে। তবুও নাসিরনগরের হাওর পাড়ের মানুষের কান্নার শব্দ শোনার কেউ নেই বলে তাঁরা আক্ষেপ করছেন। কৃষকদের টিকে থাকার জন্য জরুরি ত্রাণ ও কৃষি ঋণ মওকুফ এখন সময়ের দাবি।