
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। খুলনা অঞ্চলের ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে প্রকৃত উৎপাদন। ফলে খুলনা শহরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ
- বন্ধ থাকা কেন্দ্রসমূহ: খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র।
- উৎপাদন ও চাহিদা: গ্রীষ্ম মৌসুমে এই অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা দৈনিক প্রায় ১,৬০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু থাকলেও তা চাহিদা মেটাতে পারছে না।
- জ্বালানি অনিশ্চয়তা: হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এলএনজি ও অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা আমদানিনির্ভর এই কেন্দ্রগুলোকে অচল করে দিয়েছে।
গৃহীত পদক্ষেপ ও লোডশেডিং পরিস্থিতি
বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ওজোপাডিকো (Wozopadico) অপচয় রোধে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে:
- সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা।
- সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিং মল, দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা।
- শিল্প উৎপাদনে প্রায় ৪০ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় অর্থনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বিকল্প সমাধান
পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরতা এই সংকটের প্রধান কারণ। তাদের প্রস্তাবনাগুলো হলো:
- সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব: ফার্নেস অয়েলে ইউনিট প্রতি খরচ ১৮ টাকা হলেও সৌরবিদ্যুতে তা মাত্র ৯ টাকা।
- আবাসিক সৌর প্যানেল: দেশের ৪ কোটির বেশি পরিবারের ছাদ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
- নীতিগত পরিবর্তন: সৌর সরঞ্জামে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার এবং কৃষি খাতে সৌর সেচ ব্যবস্থা চালু করা।