আশাশুনি বালু লুট: মেয়াদ শেষেও চলছে অবৈধ উত্তোলন

আশাশুনি বালু লুট বন্ধ না হয়ে বরং আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার হিজলিয়া মৌজার বালুমহালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। গত ১৩ এপ্রিল বালু তোলার সময়সীমা শেষ হলেও এখনো প্রভাবশালী একটি চক্র নদী থেকে বালু তুলে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নতুন করে বালুমহাল ইজারা নেওয়ার জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। তবে আগের বছরের ইজারাদাররা প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে আশাশুনি বালু লুট কার্যক্রমে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বিভিন্ন অংশে কার্গো ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে এবং তা স্থানীয় আড়তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, প্রতি ফুট বালুর জন্য নির্দিষ্ট হারে টাকা পরিশোধ করে তারা কাজ করছেন। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি রাতেই নদী থেকে বাল্কহেড ও কার্গোর মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, অনেকেই পুরোনো ইজারার নাম ব্যবহার করে বালু তুলছেন। প্রকৃত ইজারাদারদের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে এই কাজ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন করে কাউকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অননুমোদিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।