পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা: খুলনার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আর্তনাদ

মে দিবসে নেই শ্রমিকদের কোলাহল

খুলনার বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে দীর্ঘদিনের হাহাকার বিরাজ করছে। এক সময় মে দিবস এলে খালিশপুর ও দৌলতপুর শিল্পাঞ্চল উৎসবে মেতে উঠত। ২০২০ সালে বিজেএমসির অধীনে ৯টি পাটকল বন্ধ হওয়ার পর সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ইজারা দেওয়া মিলগুলোতে শ্রমিকরা নামমাত্র মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিল্পহীন নগরীতে পরিণত হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মিলগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতারা। সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বেকার হয়ে পড়া কয়েক হাজার পরিবার।

খুলনার দাদা ম্যাচ, নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল দুই দশকের বেশি সময় বন্ধ রয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়া মিলগুলো শ্রম আইন মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে মাত্র ২৬০ টাকা দৈনিক মজুরিতে কাজ করছেন ইজারা দেওয়া মিলের শ্রমিকরা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নতুন বিনিয়োগের আশার কথা শুনিয়েছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ছয়টি মিল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হবে। প্রতিটি মিলে এক হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসতে পারে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা এবং উৎপাদনমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মিলগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে চালুর আবেদন জানিয়েছেন শ্রমিক দল। মহান মে দিবসে ঢাকা থেকে এই দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। শিল্প এলাকাগুলো এখন বিরাণভূমিতে পরিণত হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নেমেছে। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও সঠিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। মিলগুলো আবার সচল হলে খুলনার হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে সব বন্ধ কারখানা ভিন্ন শিল্পখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চালু হবে।

Translate »