
ভারতে আসন বিতর্ক ঘিরে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন কালো পোশাক পরে জনতার সামনে হাজির হন। তাঁর হাতে ছিল একটি সরকারি বিলের কপি ও একটি লাইটার। তাঁর ভাষায় এটি ‘কালো আইন’, যেখানে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানের মধ্যেই বিলটি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Independent জানায়, এটি শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ নয়; বরং একটি বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা। এই বিতর্ক মূলত প্রতিনিধিত্ব, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের কাঠামোকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যার সরকার সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি দাবি করছে, ২০২৩ সালের নারী সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন, যেখানে সংসদ ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, নারী সংরক্ষণের জন্য সংসদের কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তারা বলছেন, এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠন করা।
১৯৭০-এর দশকের পর থেকে ভারতে বড় ধরনের আসন পুনর্বণ্টন হয়নি। নতুন প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনশুমারির ভিত্তিতে আসন পুনর্নির্ধারণ এবং লোকসভার সদস্যসংখ্যা ৮৫০ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা চলছে।
বিজেপি মুখপাত্র রাধিকা খেরা বলেছেন, এই পুনর্নির্ধারণ শুধু সংখ্যার বিষয় নয়, বরং গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের বিষয়। তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে এ প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ জনসংখ্যাভিত্তিক বণ্টনে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো বেশি আসন পেতে পারে।
তামিলনাড়ুর শাসক দল দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম-এর সংসদ সদস্য পি উইলসন এটিকে পুরোনো রাজনৈতিক সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
🔸 কলকাতায় তল্লাশি অভিযান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আয়কর বিভাগ ভারত তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে।
দেবাশিস কুমার-এর বাসভবন ও নির্বাচনী কার্যালয়ে শুক্রবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়। দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোড এলাকায় তাঁর বাড়ি ও অফিসে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।