
সুন্দরবন থেকে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ শামুক উদ্ধার করেছে বন বিভাগ ও পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে শ্যামনগরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে এসব শামুক জব্দ করা হয়। পাচারকারীরা সাধারণ পণ্যের আড়ালে প্রায় ৫০ বস্তা শামুক-ঝিনুক বুকিং করেছিল। উদ্ধারকৃত এসব মালামালের মোট ওজন প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নকিপুর বাজারে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই চালানটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বন বিভাগ জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী পাচার করছে। পাচারকারীরা প্লাস্টিকের বস্তায় প্যাকেটজাত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক ও ঝিনুক আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্থানীয় হানজালা নামে এক ব্যক্তি এই চালানটি বুকিং করেছিলেন। অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই ধরনের মালামাল পরিবহন নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। বন আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামনগর থানা পুলিশ জানায় বিপুল পরিমাণ শামুক উদ্ধার পাচারকারীদের জন্য বড় ধাক্কা। পরিবেশবিধ্বংসী অপরাধ দমনে পুলিশের এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। পরিবেশকর্মীরা কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় শামুক ও ঝিনুকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাচারের এই নতুন কৌশল রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে। উদ্ধারকৃত সব শামুক এখন বন বিভাগের জিম্মায় রাখা হয়েছে। বনের পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগ সব সময় সজাগ রয়েছে।