
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বুধবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন বুথফেরত জরিপ এই পূর্বাভাস দিয়েছে। অধিকাংশ সমীক্ষায় বলা হয়েছে এবার বিজেপি রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। প্রজা পোল ও পি-মার্ক সংস্থাগুলো বিজেপিকে এককভাবে এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে জনমত পোল তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। ভোটারদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সম্ভাব্য ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৪ মে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
২০১১ সালের রেকর্ড ভেঙে এবার ভোটদানের হার সর্বোচ্চ হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষের এক ঘণ্টা আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়ে। বুথফেরত জরিপের ফল অনেক সময় চূড়ান্ত ফলের সাথে মেলে না। তবুও চারটি বড় সংস্থা বিজেপির সরকার গঠনের কথা বলছে। তৃণমূলের দুর্গ রক্ষায় মমতা ব্যানার্জি মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছেন। বিজেপি নেতাদের দাবি তারা এবার দুই শতাধিক আসন পাবে। ম্যাট্রিজ ও পোল ডায়েরিও বিজেপির অনুকূলে ইঙ্গিত দিয়েছে। চাণক্য স্ট্র্যাটেজিসের সমীক্ষায় দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
অধিকাংশ বুথফেরত জরিপে বিজেপির জয়ের জোরালো সম্ভাবনা থাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। যদি এই জরিপগুলো মিলে যায় তবে তা হবে ঐতিহাসিক ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত জরিপের এই তথ্যগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপি সমর্থকরা ইতিমধ্যে জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ ছিল মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ। জনমত পোল তৃণমূলকে সর্বোচ্চ ২০৫টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। পিপলস পালসও তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কারা ক্ষমতা দখল করবে তা এখন সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনের এই ফলাফল পুরো ভারতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।