কুয়েত আকাশসীমা চালু: দুই মাস পর স্বাভাবিক হচ্ছে বিমান চলাচল

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর কুয়েত আকাশসীমা চালু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কুনা এবং আনাদোলু এজেন্সি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পর সতর্কতামূলকভাবে কুয়েত আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। প্রায় ৬০ দিনের বেশি সময় পর এখন ধাপে ধাপে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে কুয়েত আকাশসীমা চালু হওয়াকে পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিক কার্যক্রমের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে সব ফ্লাইট চালু করা হবে।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান-এর আকাশসীমাতেও সতর্কতা জারি ছিল।

সংঘাতের সময় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশসীমা বন্ধ থাকার সময় কিছু বিমানবন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এই সময় কুয়েতের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো সাময়িকভাবে সৌদি আরব-এর বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এ জন্য সৌদি সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেছে কুয়েত।

বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা পুনরায় চালু হওয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Translate »