কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ: রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম

কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারে অস্বাভাবিক ব্যয় এবং দুর্নীতি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ। ৩১ নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তা মেরামতে চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সরেজমিনে জানা যায়, ৩১ নং ওয়ার্ডের মহির বাড়ি কালভার্ট থেকে আরজুর কালভার্ট পর্যন্ত ছোট রাস্তাটি সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। তবে মানহীন, যত্রতত্র এবং দায়সারাভাবে রাস্তার কাজটি করায় জনদুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সচেতন মহল সরাসরি কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, কেসিসি প্রশাসক জনাব নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিজ ক্ষমতাবলে, বিশেষ প্রয়োজনে জনস্বার্থে, উন্নয়ন বা সংস্কার কাজের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দিতে পারেন। সেভাবেই জনস্বার্থে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নীরব এন্টারপ্রাইজকে মহির বাড়ি খালপাড় থেকে আরজুর কালভার্ট পর্যন্ত রাস্তা মেরামত বাবদ কেসিসির ফান্ড থেকে ৪ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা উন্নয়ন এস্টিমেট হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, পুরাতন ইট তুলে ধুলোবালু দিয়ে কোনো রকমে আবার সেই পুরাতন ইট বিছিয়ে দিয়ে বহুল ব্যবহৃত ছোট রাস্তার কাজ একেবারেই নিম্নমানের দায়সারাভাবে শেষ করা হয়েছে। কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তাটিতে আবার নাজুক দশার সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জনগণের ট্যাক্সের টাকার কাজ না করে এভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে ভুক্তভোগী জনগণ এর সুষ্ঠু সমাধান চান। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নিম্নমানের কাজের ফলে কেসিসি প্রশাসন তথা বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার নাজমুল হাসান নাসিম ৩১ নং ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা। সচেতন মহলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসক মহোদয়কে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং জনাব তারেক রহমানের উন্নয়নমুখী সরকারকে সমালোচিত করতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার কাজ মাত্র ৭০/৭৫ হাজার টাকায় করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

মাননীয় প্রশাসক মহোদয় নিজে সরেজমিনে গিয়ে রাস্তাটির বেহাল দশা পর্যবেক্ষণ করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে, এলাকার জনগণ উপকৃত হবে এবং কেসিসির প্রতি জনআস্থা ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2026 AjkerNewsBD

Translate »