জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগে জমা দেওয়া সনদ যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। তদন্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সনদ জাল, ভুয়া বা তথ্য গোপনের মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপরই মূলত অপরাধী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার মাউশি পৃথকভাবে অভিযুক্তদের এ কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার এর বিষয়টি চিহ্নিত করেছিল। এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠায় ডিআইএ।
পরে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। এখন মাউশি সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো নিরপরাধ শিক্ষক যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
Published by AjkerNewsBD

Leave a Reply